এখন বোঝা গেল দেশের ক্যাডেট কলেজ ও মিলিটারি একাডেমি জঙ্গি তৈরির কারখানা। হয় এগুলো বন্ধ করতে হবে, নয়তো এগুলো আধুনিক মানবিক দেশপ্রেমিক মার্জিত ও শিক্ষিত মানুষদের পরিচালনা করতে হবে।
অনলাইন : ২৪ জুলাই ২০২৬
ক্যাডেট কলেজ: "কিল দ্য ইন্ডিয়ান ইন হিম অ্যান্ড সেভ দ্য ম্যান"
-কেউ এই ছবিগুলো একসঙ্গে দিয়ে বলেছেন, এনারা সবাই ক্যাডেট কলেজের ছাত্র ছিলেন। কতটুকু সত্য, জানি না। কেউ জানলে জানান। তবে দুই বছর আগে আমি ক্যাডেট কলেজগুলো যে খুনের দর্শন ও স্থানীয় সংস্কৃতির জাতিগত উৎখাতের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেটা নিয়ে লিখেছিলাম। যার সঙ্গে দিয়েছিলাম একটি তালিকা—হোলি আর্টিজানসহ সন্ত্রাসবাদের নেতৃত্বেও যে আমাদের ক্যাডেট কলেজগুলো থেকে এসেছে, সেটি।
মেজর জিয়া—সিলেট ক্যাডেট কলেজে, সাইফুল্লাহ ওজাকি—সিলেট ক্যাডেট কলেজ, সাখাওয়াত কাওসার—মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ, আমিনুল ইসলাম বেগ—বরিশাল ক্যাডেট কলেজ, শামিন মাহফুজ—রংপুর ক্যাডেট কলেজ,
গাজী কামরুস সালাম সোহান—মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ, নজিবুল্লাহ আনসারী—রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ, আরও খোঁজখবর করলে তালিকাটা অনেক লম্বা হবে।
এরা কেউ সাধারণ সন্ত্রাসী নয়; এরা নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাসম্পন্ন এবং নেতৃত্বের পর্যায়ে থাকা ব্যক্তি। এরা সবাই এসেছে ক্যাডেট কলেজ থেকে।
লিখেছিলাম ক্যাডেট কলেজের মনস্তত্ত্ব নিয়ে। মিলিয়ে দেখুন, হত্যার দর্শন ও মনস্তত্ত্বের সঙ্গে মেলে কি না।
ক্যাডেট কলেজ মনস্তত্ত্বের জন্মকথা............
উনিশ শতকের শেষের দিকে, যখন বেশিরভাগ আদিবাসী আমেরিকানরা তাদের জন্য সংরক্ষিত সীমাবদ্ধ এলাকার মধ্যে বাস করতে বাধ্য ছিল, তখন আমেরিকার ফেডারেল সরকার হাজার হাজার আদিবাসী আমেরিকান শিশুকে বিশেষ বোর্ডিং স্কুলে যোগ দিতে বাধ্য করার মাধ্যমে একটি সাংস্কৃতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত হয়।
১৮৭৯ সালে আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ায় কার্লাইল ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুলটি জনৈক রিচার্ড প্র্যাট প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে স্থানীয় জনগণ (আদিবাসী আমেরিকান) তাদের ঐতিহ্য, অভ্যাস ও বিশ্বাস নির্মূল না করা পর্যন্ত জীবনে সফল হতে পারবে না।
রিচার্ড প্র্যাটের বিখ্যাত দর্শন ছিল: "ওদের ভেতরের আদিবাসী সত্তাকে হত্যা করতে হবে এবং মানুষটাকে বাঁচাতে হবে" (“Kill the Indian in him and save the man”)।
এই দর্শনের ভিত্তিতেই স্কুলটির মডেল তৈরি হয়। পরবর্তীতে কার্লাইল স্কুল আমেরিকায় একটি জাতীয় মডেল হয়ে ওঠে স্থানীয় আদিবাসী আমেরিকানদের মানুষ করতে।
তখন ৪০০টিরও বেশি দিবা ও বোর্ডিং স্কুল আদিবাসী সংরক্ষিত এলাকার কাছাকাছি নির্মিত হয়েছিল এবং সেগুলো বেশিরভাগ খ্রিস্টীয় চার্চের প্রভাবিত নিয়মে পরিচালিত হতো। ১৮৮০ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে কমপক্ষে ২৫টি অফ-রিজার্ভেশন বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। যেখানে প্রায় এক লাখ আদিবাসী আমেরিকানকে এই স্কুলগুলোতে পড়তে বাধ্য করা হয়েছিল।
সেখানে ছাত্রদের স্থানীয় ভাষায় কথা বলা নিষিদ্ধ ছিল, স্থানীয় বিশ্বাস ত্যাগ করার জন্য চাপ দেওয়া হতো এবং তাদের নামসহ আদিবাসী আমেরিকান পরিচয় ত্যাগ করতে বাধ্য করা হতো।
পাকিস্তানের সামরিক শাসকেরাও একইভাবে বিশ্বাস করত যে স্থানীয় বাঙালিরা তাদের ঐতিহ্য, অভ্যাস ও বিশ্বাস নির্মূল না করা পর্যন্ত সভ্য হবে না এবং প্রকৃত মুসলামানও হবে না। তারা স্থানীয় বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতিকে আধা হিন্দু ভাবত।
"ওদের আদিবাসী সত্তাকে হত্যা করতে হবে এবং মানুষটাকে বাঁচাতে হবে" মার্কিন ধর্ম-সামরিক দর্শন পাকিস্তানে এসে পাকিস্তানের শাসক শ্রেণীর "ওদের বাঙালি সত্তাকে হত্যা করতে হবে এবং মানুষটাকে বাঁচাতে হবে" দর্শনে পরিণত হয়েছে। এই দর্থেশন থেকেই ক্যাডেট কলেজগুলোর সৃষ্টি, যা আজও মোল্লা-মিলিটারি ভাইরাস ছড়িয়ে দেশকে ধ্বংস করে চলেছে।
আমাদের ভারতবিরোধিতা, হিন্দুবিদ্বেষ এবং স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী চক্রের দর্শন একই—মৌলিক বা মাটির সত্তাকে হত্যা করা।
"Kill the Indian in him and save the man"—আমেরিকায় আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের জন্য হলেও, সেটাকে আমরা আক্ষরিক অর্থেও নিয়েছি।
"Kill the Indian in him and save the man" মানে মগজধোলাই হচ্ছে—আমাদের মধ্যে যা ভারতীয়, তাকে শেষ করা এবং পাকিস্তান ও ইসলাম দিয়ে সেটাকে প্রতিস্থাপিত করা।
আমেরিকার তৈরি এই ক্যান্সার যতদিন এ দেশে থাকবে, ততদিন এ দেশে শান্তি আসবে না। তাদের দর্শন হত্যার এবং উদ্দেশ্য জাতিগত ও সাংস্কৃতিক উৎখাত—সেটাই তারা ২০২৪ সালে বাস্তবায়িত করতে চাইছে।
তবে দেরিতে হলেও আমেরিকার অনেক মানুষ এই সংস্কৃতিহীনতা বিকাশের ফল বুঝেছে। এই সংস্কৃতিহীনতা, খুনের দর্শন রপ্তানি করা এবং তাদের সমর্থন করা সামনের দিনগুলোতে সীমিত হবে—সেটাই মনে করি।
কিলার সাইকোপ্যাথ তৈরি করা ক্যাডেট কলেজগুলো একদিন বন্ধ হবে এবং সেটাই জাতিকে রক্ষার জন্য একটি বড় কাজ হবে।
আমাদের মাদ্রাসাগুলোতে যা শেখানো হয়, সেটা ধর্ম সামান্যই; সেটা আসলে রিচার্ড প্র্যাটের কার্লাইল ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুল মডেলের সাংস্কৃতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় মগজধোলাই।
© Sirajul Hossain
ভাই আমার ছবিটা পরিবর্তন করলে ভালো হয়, এখন আর আগের মতো স্বাস্থ্য নাই। আরেকটা বিষয় এখানে আমি সহ আরো একাধিক ব্যক্তি আছেন যারা ক্যাডেট কলেজ সহ বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে পদার্পণ ও প্রশিক্ষনের সুযোগ পেয়েছেন, সে বিষয়ে একটা আলাদা বিশ্লেষণ দাঁড় করাতে পারেন। ধন্যবাদ 
Abm Sirajul Hossain's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল কতৃপক্ষ দায়ী নন।
Abu Bakar Siddique
আপনার লেখার দর্শন সত্যিই অন্যরকম ভাই। ভালো থাকুন। এক সময়ের স্থানীয় আওয়ামীলীগের অনেক বড় ডোনার এক চাচার ছেলে এক্স ক্যাডেট। সম্ভব এমন যে উনি মারা যাওয়ার সময়েও জয় বাংলা, শেখ মুজিব বলছে কিনা জানিনা, এমনটাই উনার মন এবং মগযে। ৫ আগস্টের পর থেকে উনার এক্স ক্যাডেট ছেলে যেভাবে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা এবং আওয়ামীলীগকে নিয়ে বিশদাগার করছেন, আমি ভাবলেও অবাক হই। আসলেই সেই চাচার সন্তান সে কিনা। একবার শুধু ফোনে ইউনুচ্চাইকে নিয়ে একবার নেগেটিভ ভাবে কথা বলেছিলাম, পারলে মারতে আসে।
লেখাটি অবশ্য তাৎপর্যপুর্ণ বার্তা বহন করে। আদর্শের নামে মগজ ধোলাই পৃথিবীর দেশে দেশে দেখা যায়। তবে আমাদের বাঙালি এবং নামধারী মুসলমানদের মগজ ধোলাই হয় স্বজাতি হত্যার উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য
ঠিক বলেছেন ভাই, ক্যাডেট কলেজে পড়া ছেলে মেয়ে সত্যি অমানবিক নিষ্ঠুর অমানুষ হয়। একজন শিক্ষক হিসাবে আমার ধারনা, প্রথমত, এরা অনেক ছেলে মেয়ের মধ্যে ক্যাডেট কলেজে সুযোগ পায় বিধায় এরা নিজেদের প্রথম থেকেই সর্বশ্রেষ্ঠ বলে মনে করে। এটা আত্ম দম্ভ। তারপর দেখবেন এরা নিজেদের মতাদর্শ সবচেয়ে উচ্চ মনে করে, তারপর অসামাজিক জীব হয়ে যায়, বাড়িতেও বাবা মা'র সাথে ঠিক মতো কথা বলে না। তাই এরা তো শয়তান হবেই।
বাংলাদেশের মাটি,ভাষা,সংস্কৃতি, কৃষ্টি, কালচার,জাতীয়তাবাদ এর সাথে মিশে যাওয়া মানুষ গুলোই সঠিক।তার জন্য দল করতে হয় না।সময়ে তারা জেগে উঠে।এইজন্য এই ভাষা কে শেষ করার জন্য ১৯৫২।একটা উদাহরণ দিলাম।তবে যারা এগুলো ধারন করে তাদের নিশেষ করা এত সহজ নয়।তারা জেগে উঠবেই।
এই ক্যাডেট কলেজ নীতি,মাদ্রাসা নীতি,পোড়া মাটি নীতি কোন কিছুই কাজে আসবে না।
আর যে দল এর অধিকাংশ ধারন করে জনগন তার পক্ষেই যাবে।প্রথমে ভুল করলেও।
কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থীর অপরাধ দেখিয়ে পুরো ক্যাডেট কলেজকে সন্ত্রাসের উৎস বলা যুক্তিগতভাবে ভুল। ১২টি ক্যাডেট কলেজ থেকে কয়েক দশকে বহু হাজার শিক্ষার্থী পাস করেছে। মুক্তিযুদ্ধে ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও জীবন দিয়েছেন, আর বহু প্রাক্তন ক্যাডেট দেশ ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
শুধু ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকেই আনুমানিক ৩,২০০ জন বের হয়েছে। সাতজনকে এই সংখ্যার সঙ্গে তুলনা করলেও হার মাত্র “০.২২ শতাংশ”। অথচ তারা বিভিন্ন কলেজের। সব ১২টি কলেজ ধরলে হার আরও কম হবে।
কার্লাইল স্কুলের সঙ্গে একই ঐতিহাসিক প্রকল্প বলার জন্য প্রতিষ্ঠার নথি, পাঠ্যক্রম ও গবেষণার প্রমাণ দরকার। শুধু আবাসিক শৃঙ্খলা ও সামরিক পরিবেশের মিল ইতিহাসের প্রমাণ নয়।
সমালোচনা করুন, কিন্তু কয়েকটি নাম ও প্রমাণহীন তুলনা দিয়ে হাজার হাজার সাবেক শিক্ষার্থীকে অপরাধী বানাবেন না।
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল কতৃপক্ষ দায়ী নন।
নিউজ ডেস্ক