সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

অনুকূলের ঋণ ও অকৃতজ্ঞতার উত্তরাধিকার: ইতিহাস যখন রক্তধারায় কথা বলে।

নিউজ ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৫ pm
অনুকূলের ঋণ ও অকৃতজ্ঞতার উত্তরাধিকার: ইতিহাস যখন রক্তধারায় কথা বলে।

অনলাইন ২৭ জুলাই, ২০২৬

অনুকূলের ঋণ ও অকৃতজ্ঞতার উত্তরাধিকার: ইতিহাস যখন রক্তধারায় কথা বলে।
ইতিহাসের পাতায় আলো আর ছায়ার খেলা নতুন কিছু নয়। কিছু নাম সময়কে ধারণ করে অমর হয়ে থাকে, আবার কিছু নাম সম্পর্কের টানাপোড়েন, সুবিধা এবং রাজনীতির হিসাব-নিকাশে প্রশ্নের মুখে পড়ে। সময়ের আবর্তে যখন কোনো চরিত্রকে আমরা বিচার করতে বসি, তখন তাদের মেধার আলোটুকু যেমন উদ্ভাসিত হয়, তেমনই প্রাপ্ত সুযোগ ও বিশ্বাসের অপব্যবহারের দাগগুলোও স্পষ্টভাবে ভেসে ওঠে।
আলী জাকের-বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে তাঁর মেধা, অভিনয় আর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটেছিল এক অনুকূল রাজনৈতিক ও সামাজিক হাওয়া নিয়ে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে স্নেহ ও সান্নিধ্য তিনি পেয়েছিলেন, তা ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় চালিকাশক্তি।কেবল সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেই নয়, বঙ্গবন্ধুর সরাসরি আনুকূল্যে তিনি অর্থনৈতিকভাবেও পেয়েছিলেন বিরাট সুবিধা ও সুদৃঢ় নিরাপত্তা। রাষ্ট্র ও নেতৃত্বের সেই আনুকূল্য তিনি অকৃপণভাবেই ভোগ করেছিলেন, যা নাট্যাঙ্গন ও বাণিজ্যিক জগতে তাঁর অবস্থানকে করেছিল অত্যন্ত সুসংহত। কিন্তু ইতিহাসের ট্র্যাজেডি হয়তো এখানেই-যে হাত একদা অকৃপণভাবে আশ্রয় ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দেয়, বিপদে বা উদযাপনে সেই হাতের ঋণ স্বীকারের বেলায় অনেকেই গুটিয়ে নেন নিজেদের।
কিংবদন্তি কলামিস্ট আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী যখন বঙ্গবন্ধুর জীবনের ওপর বায়োপিক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তখন সেই ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রথম পছন্দ ছিলেন আলী জাকের। যে নেতার আনুকূল্য ও অর্থনৈতিক আশ্রয়ে একজন শিল্পীর প্রতিভার বিকাশ ঘটেছিল, তাঁরই মহাকাব্যিক চরিত্রকে রূপালি পর্দায় ফুটিয়ে তোলার এই প্রস্তাব কেবল এক অনন্য সুযোগই ছিল না, ছিল এক নৈতিক ও ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা পরিশোধের মাধ্যম। কিন্তু আলী জাকের সেই সুযোগ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধুর ভূমিকায় অভিনয় করতে সরাসরি অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন অভিনেতা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিপুল সুবিধা পাওয়ার পর দায়বদ্ধতার মুহূর্তে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার এই অনীহা সেদিন রূপ নিয়েছিল এক চরম অকৃতজ্ঞতায়, যা ইতিহাসের পাঠকের মনে এক গভীর আক্ষেপ আর ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল।
আজ যখন দুই দশক পর ২০২৪-এর লাল বিপ্লব ও ষড়যন্ত্রের ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর সন্তান ইরেশ জাকেরের অবস্থান নিয়ে আলোচনা ওঠে, তখন অনেকেই থমকে দাঁড়ান। কিন্তু ঘটনাপ্রবাহ গভীরভাবে অনুধাবন করলে এই আচরণে অবাক হওয়ার খুব বেশি কিছু থাকে না। কারণ সুবিধা আদায়ের মানসিকতা আর অকৃতজ্ঞতার ছায়া অনেক সময় বংশানুক্রমিক ধারায় প্রবাহিত হয়। রক্তের টান আর পারিবারিক স্মৃতির যে উত্তরাধিকার মানুষ বহন করে, তা কেবল চেহারায় নয়, চরিত্র ও নৈতিক অবস্থানের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়।

যে পিতা ইতিহাসের অন্যতম মহানায়কের কাছ থেকে চরম অর্থনৈতিক সুবিধা পেয়েও তাঁর ঋণ স্বীকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পেরেছিলেন, সেই উত্তরাধিকার বহনকারী সন্তান যে সংকটের সময়ে অন্য কোনো আদর্শের সাথে বেইমানি করবে-তা তো এক নির্মম কিন্তু স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা। ইতিহাস তাই কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; আজ যা ঘটে চলেছে, তা কেবল অতীতের সেই নীরব অকৃতজ্ঞতারই এক আধুনিক সংস্করণ। ডিএনএ-র অলিখিত নিয়মেই বোধহয় বেইমানির এই ধারাবাহিকতা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নিঃশব্দে বয়ে চলে।তাই ইরেশ জাকেরের বেইমানিতে আপনারা অবাক হলেও আমি হইনি।

ফরহাদ আহমেদ ফাহাদ's Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল কতৃপক্ষ দায়ী নন।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!